সলঙ্গার কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎ খাস ইজারাভুক্তি না হওয়ায় সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত

  • আপলোড সময় : ১১ জুন ২০২৬, রাত ৯:১১ সময়
  • আপডেট সময় : ১১ জুন ২০২৬, রাত ৯:১১ সময়
সলঙ্গার কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎ খাস ইজারাভুক্তি না হওয়ায় সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত


স্টাফ রিপোটার 

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে সরকারিভাবে খাস ইজারাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী।দীর্ঘদিন ধরে সকল শর্ত পূরণ করেও আড়ৎটি সরকারি খাস ইজারার আওতায় না আসায় তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

জানা যায়,বাসুদেবকোল মৌজার কুতুবের চর এলাকায় ২৫ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে “কুতুবের চর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেড” গঠন করা হয়।পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সমিতিটি নিবন্ধন লাভ করে। নিবন্ধন নম্বর-০০২৭।

মৎস্য আড়ৎ ও হাট পরিচালনার স্বার্থে সমিতির পক্ষ থেকে সরকারকে ৩০ শতক ভূমি লিখিতভাবে প্রদান করা হয়েছে।এছাড়াও সমিতির উদ্যোগে ব্যক্তি মালিকানাধীন ২ দশমিক ০৭ একর লিজকৃত জমির ওপর আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মৎস্য আড়ৎ গড়ে তোলা হয়েছে।

সমিতির সদস্যরা নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, শেড নির্মাণ,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যানবাহন পার্কিং, টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন।ফলে আড়ৎটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ বেচাকেনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মেট্রিক টন মাছ এখানে আসে।নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে পারায় আড়ৎটির সুনাম দিন দিন বাড়ছে।প্রতিদিন এখানে প্রায় ১ কোটি ৩০-৪০ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবী,এই মৎস্য আড়ৎকে কেন্দ্র করে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।যা স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

আড়ৎটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সংশোধনী নিবন্ধন নং ০২ এর মাধ্যমে রায়গঞ্জ,সিরাজগঞ্জ সদর,কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও তাড়াশ এই ৫ উপজেলার সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৬। 


স্থানীয়দের অভিযোগ,রহস্যজনক কারণে এখনও সরকারি খাস ইজারার আওতায় আনা হয়নি আড়ৎটি।এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান,কুতুবের চর মৎস্য আড়তটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট-পিটিশন  দায়ের করা আছে। নিষ্পত্তি হলে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কুতুবের চর মৎস্য আড়ৎকে খাস ইজারাভুক্ত করার দাবী জানিয়েছেন সমিতির সদস্য ও এলাকাবাসী।




কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ