মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি|
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক বৈধ ব্যবসায়ীকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি ও প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নেওয়ার পরও অজানা কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও মামলার সাক্ষীরা।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামনগর গ্রামের আবুল কালামের পুত্র মোঃ কামরুজ্জামান (৩০) বিগত ১০ বছর যাবৎ ট্রাক্টর ও স্কেভেটর ভাড়া প্রদানের ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি গোদাগাড়ী থানার জলাহার গ্রামে ৫নং সাক্ষী মোঃ শাহীনের নিকট একটি স্কেভেটর ভাড়া দেন তিনি। এরপর থেকেই আতাহার মোড় এলাকার মোজাম্মেলের পুত্র মোঃ মুরসালিন মুসা (২৭) ও তার সহযোগীরা ওই ব্যবসায়ীকে কাজ করতে হলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল।
মামলার আরজি সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত ১২.২৪ মিনিটে আসামী মুরসালিন মুসা তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন (০১৮৪৫-৩৮৫৭৯২) থেকে বাদী কামরুজ্জামানের মোবাইলে কল করে প্রতিদিন ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই রাতেই আনুমানিক ৩.৩০ ঘটিকায় আসামী মুসা আরও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জলাহার গ্রামে চলমান খনন কাজের স্থানে চড়াও হয় এবং কাজ বন্ধ করে দেয়।
খবর পেয়ে স্কেভেটর চালক তৌহিদের ফোন পেয়ে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামীরা তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও মামলার সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে বিজ্ঞ গোদাগাড়ী থানা আমলী আদালত, রাজশাহীতে দণ্ডবিধি আইনের ৩৮৫/৫০৬ (২) ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- সি/২০২৬ (গোদাগাড়ী), সিরিজ- Q)।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার কাছে চাঁদা দাবির অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। আদালতের দ্বারস্থও হয়েছি। কিন্তু মামলা হওয়ার পরও প্রশাসন কোনো এক অজানা কারণে আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়। মামলা দায়েরের পরেও প্রশাসনের এমন ঢিলেঢালা ও রহস্যজনক ভূমিকা স্থানীয় আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীর আইনজীবী এডভোকেট মোঃ আহসান হাবিব (জজ কোর্ট, রাজশাহী) জানান, চাঁদা দাবি ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি একটি গুরুতর অপরাধ। বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আশা করি মহামান্য আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বাদীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আসামীদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
প্রশাসনের এই অজানা ব্যর্থতা বা নিষ্ক্রিয়তার পেছনে কোনো মহলের রাজনৈতিক বা নেপথ্য চাপ রয়েছে কি না তা নিয়ে এলাকায় এখন নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন