শীতের আগমনে উল্লাপাড়ায় লেপ-তোষকের দোকানে ব্যস্ততা,কারিগররা

  • আপলোড সময় : ২১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৩১ সময়
  • আপডেট সময় : ২১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৩১ সময়
শীতের আগমনে উল্লাপাড়ায় লেপ-তোষকের দোকানে ব্যস্ততা,কারিগররা


এনামুল হক উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

শীতের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে সকালের কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বাড়তে শুরু করেছে লেপ-তোষক তৈরির ব্যস্ততা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানগুলোতে চলছে তুলা ধুনা, কাপড় কাটা, সেলাই ও লেপ-তোষক তৈরির কাজ। শীত পুরোপুরি জেঁকে না বসলেও আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নতুন লেপ-তোষক তৈরি এবং পুরোনো লেপ-তোষক মেরামত করাতে দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। আর ক্রেতাদের এই আগাম প্রস্তুতিকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

তবে শীতের প্রস্তুতিতে এবার বাড়তি খরচের মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তুলা, কাপড়সহ লেপ-তোষক তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকদের মজুরিও। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার লেপ-তোষক তৈরির খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলছে দরকষাকষি। একদিকে শীতের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখতে চান ক্রেতারা, অন্যদিকে বাড়তি উৎপাদন খরচ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের

সরেজমিনে  উল্লাপাড়ার লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে দেখা যায়, শীত মৌসুমকে সামনে রেখে কারিগরদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। কেউ তুলা ধুনছেন, কেউ লেপ-তোষকের মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটছেন, আবার কেউ সুঁই-সুতার সাহায্যে সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত। দোকানের এক পাশে চলছে নতুন লেপ-তোষক তৈরির কাজ, অন্যদিকে পুরোনো লেপ-তোষক খুলে তুলা পরিষ্কার করে নতুন কাপড় লাগিয়ে ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে।

শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই অনেকে লেপ-তোষক তৈরি করে রাখতে চান। তাই মৌসুমের শুরুতেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে পুরোনো লেপ-তোষক নতুন করে তৈরি করানোর প্রতি আগ্রহ রয়েছে অনেকের। এতে নতুন পণ্য বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো লেপ-তোষক মেরামতের কাজও পাচ্ছেন কারিগররা।

লেপ-তোষক তৈরির কাজ শুধু শীতের প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও এসব পণ্যের চাহিদা থাকে। ফলে শীতের আগমনের পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্ডার পেয়ে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিমাণ ও বিক্রি আরও বাড়বে।

দাম নিয়ে ক্রেতাদের হিসাব-নিকাশ

শীতের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ক্রেতাদের এখন বাড়তি খরচের হিসাব কষতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার মধ্যে লেপ-তোষক তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আগের তুলনায় বেশি টাকা ব্যয় করছেন। কেউ নতুন লেপ-তোষক কিনছেন, আবার কেউ খরচ কমাতে পুরোনো লেপ-তোষক মেরামত করে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এক ক্রেতা বলেন, ‘শীত যেহেতু সামনে, তাই আগেভাগেই লেপ-তোষক কিনতে এসেছি। দাম আপাতত স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। শীত বেশি পড়লে পরে আবার ব্যস্ততা বাড়তে পারে, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে সব ক্রেতার কাছে বাড়তি দাম সমানভাবে স্বস্তিদায়ক নয়। সংসারের অন্যান্য খরচ সামলে শীতের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে পছন্দের পণ্য কেনার আগে দাম যাচাই করছেন অনেকে। দরদাম করে নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে লেপ-তোষক কেনার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, লেপ-তোষক তৈরির প্রধান উপকরণ তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রমিকদের মজুরি। ফলে আগের বছরের দামে পণ্য বিক্রি করতে গেলে লাভ কমে যাচ্ছে। আবার বাড়তি খরচের কারণে দাম বাড়ালে ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হচ্ছে।

এক ব্যবসায়ী সুজন আহম্মেদ  বলেন, ‘গত বছর মোটামুটি ব্যবসা হয়েছে। এ বছর এখনো শীত পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে কাজের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বেচাকেনাও হচ্ছে। বিয়ে-শাদিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অর্ডার পাচ্ছি। শীত পুরোপুরি শুরু হলে আমাদের ব্যবসা আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।

আরেক ব্যবসায়ী আফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার তুলা, কাপড়সহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে। এ কারণে পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তবে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই কম দামে পণ্য কিনতে চান। এ নিয়ে অনেক সময় দরকষাকষি হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, লেপ-তোষকের ব্যবসা মূলত শীত মৌসুমকেন্দ্রিক। বছরের অন্যান্য সময়ে কাজ থাকলেও শীতের সময় চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই মৌসুমের শুরুতে পাওয়া অর্ডার তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কাঁচামালের বাজার স্থিতিশীল থাকলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে পণ্য বিক্রি করা সহজ হতো।

পুঁজি সংকটে কারিগরদের জন্য ক্ষুদ্রঋণের সুযোগ

লেপ-তোষক তৈরির সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারিগরদের অনেক সময় ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য বাড়তি পুঁজির প্রয়োজন হয়। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা কিংবা কাজের পরিধি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা  কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,

লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তাঁদের এখানে নেই। তবে কোনো কারিগর পুঁজির অভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে না পারলে সুদবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ সাপেক্ষে তাঁকে ঋণ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে তাঁরা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ ও ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদেরও উপকার হতে পারে।

শীত বাড়লে বাড়বে চাহিদা

উল্লাপাড়ায় এখনো শীতের তীব্রতা পুরোপুরি অনুভূত না হলেও আগাম প্রস্তুতির কারণে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, তাপমাত্রা কমতে থাকলে নতুন লেপ-তোষক কেনা এবং পুরোনো লেপ-তোষক মেরামতের চাহিদা আরও বাড়বে। এতে মৌসুমি এই ব্যবসায় গতি আসবে এবং কারিগরদের কাজের পরিমাণও 




কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ