নিজস্ব প্রতিবেদন
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থেকে তাড়াশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বনবাড়িয়া এলাকার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ হওয়ায় প্রতিদিনই যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে, সড়কের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দের পরিমাণও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে গেছে এবং বর্ষার পানি জমে গর্তগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বনবাড়িয়া এলাকার কয়েকটি অংশে যানবাহন চালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। একটু অসাবধান হলেই গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা কিংবা গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় গর্ত ও ভাঙা অংশ অনেক সময় চালকদের চোখে পড়ে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শুধু যানবাহন চলাচলই ব্যাহত হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একাধিক যানবাহন চালক বলেন, সড়কের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের সময় গাড়ির গতি কমিয়ে দিতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগে, অন্যদিকে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। সড়কের অবস্থা দ্রুত সংস্কার না করা হলে সামনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কিছু অংশে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। নিম্নমানের বা অপর্যাপ্ত সংস্কারের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও সড়কে গর্ত তৈরি হচ্ছে। ফলে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
এদিকে, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করায় দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শুধু গর্তে মাটি বা ইট ফেলে সাময়িকভাবে সংস্কার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ ও যথাযথভাবে সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
দুর্ঘটনার আশঙ্কা
বেহাল সড়কের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য ঝুঁকি বেশি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে কখনো কখনো যানবাহনকে হঠাৎ পাশ কাটাতে হয়, ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের এমন অবস্থা কোনোভাবেই দীর্ঘদিন চলতে দেওয়া উচিত নয়। সড়কটি শুধু স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের পথ নয়; এই সড়কের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও জড়িত। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি
সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, বিশেষ করে বনবাড়িয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে সড়কটি আবার দ্রুত নষ্ট না হয়, সে জন্য মানসম্মত নির্মাণকাজ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। কিন্তু দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা অবস্থার কারণে বর্তমানে এটি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বনবাড়িয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের দাবি—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন