ব্যাংক একীভূত করার আগে নিজ উদ্যোগে বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট প্রতিষ্ঠান দিয়ে সম্পদ মূল্যায়ন করাতে হবে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আলাদাভাবে বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগ করে সম্পদ মূল্যায়ন করাবে। ফলে সম্পদ বেশি দেখিয়ে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া একীভূত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের এমন বার্তা দিয়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার ডেপুটি গভর্নর, নীতি উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
জানা গেছে, বৈঠকে বিএবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার আগে দুর্বল ব্যাংক সম্পদমূল্য বেশি দেখাতে পারে। এতে করে ভালো ব্যাংক সমস্যায় পড়তে পারে। এর জবাবে গভর্নর জানান, কোনো ব্যাংক এমন সুযোগ পাবে না। কেননা প্রতিটি ব্যাংকের একটি নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন রয়েছে। আবার একীভূত করার আগে দুটি ব্যাংককেই বহিঃনিরীক্ষক দিয়ে সম্পদ মূল্যায়ন করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যাংকের মূলধন, প্রকৃত খেলাপি ঋণ, আমানত, সম্পদের পরিমাণ, প্রকৃত লোকসান বা মুনাফা– সব কিছু উল্লেখ থাকবে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ থেকে বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগ করে অডিট করাবে। ফলে সম্পদমূল্য বেশি দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া একীভূত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নীতি সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে ভালো ব্যাংক খারাপ হওয়ার সুযোগ নেই।
বৈঠক শেষে বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংক একীভূত করা নিয়ে তাদের মধ্যে নানা উদ্বেগ ছিল। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই উদ্বেগ কেটে গেছে। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে কারও ক্ষতি হবে না। দুর্বল ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং ভালো ব্যাংক আরও ভালো হবে।
তিনি বলেন, পত্রপত্রিকায় ব্যাংক একীভূত হওয়ার বিষয়টি দেখে তাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছিল। তবে গভর্নরের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে ব্যাংক একীভূত করার উদাহরণ রয়েছে। ফলে সরকার চাইলে জাতীয় স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত মানতে তারা বাধ্য। যদিও কোন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক একীভূত হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। মালিকদের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে একীভূত হবে, নাকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত দেবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়নি। ফলে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত দেবে, জাতীয় স্বার্থে তারা মেনে নেবেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংক খাতের ভালোর জন্যই ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ আছে। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে কীভাবে একীভূত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা করা হবে। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে কোনো ব্যাংক একীভূত করার দরকার হবে না। ইতোমধ্যে দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করার জন্য একটি নীতিমালা করা হয়েছে। এর আলোকে আগামী বছরের মার্চ নাগাদ দুর্বল ব্যাংক চিহ্নিত করা হবে। এরপর কোন ব্যাংক একীভূত করার দরকার, সে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের উদাহরণ থেকে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মালিকদের নিজ উদ্যোগেই ব্যাংক একীভূত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিদ্ধান্ত দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও চায়, কোনো ব্যাংক একীভূত করার দরকার হলে মালিকরা সিদ্ধান্ত নিক। তবে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত দেবে।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন