সিরাজগঞ্জে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে, দিশেহারা কৃষক

  • আপলোড সময় : ১৮ মে ২০২৬, রাত ৯:৯ সময়
  • আপডেট সময় : ১৮ মে ২০২৬, রাত ৯:৯ সময়
সিরাজগঞ্জে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান পানিতে, দিশেহারা কৃষক





মোঃ শামছুল হক, তাড়াশ উপজেলা সংবাদ দাতা, সিরাজগঞ্জ। 


সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ,তাড়াশ,উল্লাপাড়া  উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান এখনো পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত  ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে  পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র পুকুর খনন করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মাছে ভাতে বাঙ্গালী হলেও এখন ভাতকে বাদ দিয়ে শুধু মাছ চাষের দিকে ঝুঁকছে বাঙ্গালী। মাছ চাষের জন্য আবাদি জমি খনন করে পুকুর তৈরী করা হচ্ছে। 
এর ফলে আবাদী জমি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। 
এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকায় আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লাখ লাখ কৃষক। 
 সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হলো  রায়গঞ্জের পশ্চিম আটঘরিয়া, সাতকুর্শী, গোপীনাথপুর,মালতিনগর,  চকদাদপুর, কলিয়া, শ্রীরামপুর, গোপালপুর, বাশাইল, রাজাপুর ও বোয়াইল। 

অন্যদিকে তাড়াশের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হলো- ঝুরিঝুরি, সরাপপুর, বোয়ালিয়া,জাহাঙ্গীর গাঁতী, মাধবপুর, চক গোপীনাথপুর,সাস্তান, বিদুমাগুরিয়া, কাউরাইল। 

উল্লাপাড়া উপজেলার বেশি ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাম গুলোর মধ্যে - চকনিহাল,বলাইশিমলা,  রৌহাদহ, মাহমুদপুর, খোদ্রশিমলা, উত্তর কালিকাপুর,আগরপুর,
খেইশ্বর, চকসাদী,জালশুকা, পাঠান পাড়া, কুমার গাইলজানি, পাঁচান ও দবিরগঞ্জের জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। 
এ মৌসুমের অতিবৃষ্টি এবং কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে প্রায় সবগুলো জমির পাকা, আধাপাকা ধান পানিতে পড়ে
গেছে।
ধান পাকলেও শ্রমিক সংকটে সময় মত কাটতে না পারায় পানিতে পড়ে থাকা ধানে গাছ বের হচ্ছে। এমনকি স্বর্ণের মূল্যের খড়ও পঁচে যাচ্ছে। 
দিনহাজিরা একজন শ্রমিকের মজুরী ১ হাজার টাকা থেকে ১৪শো টাকায় পৌঁছেছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ এলাকার বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণেই এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। তারা অবাধে এ ধরনের পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, তাড়াশ উপজেলার সরাপপুর গ্রামের কৃষকেরা হাজার হাজার বিঘা জমি বিগত কয়েক বছর ধরে  ইরি বোরো মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারনে চাষ না করেই পতিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন। 
এতে কৃষকরা প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কৃষকেরা বলছেন, এসব জলাবদ্ধতা রোধে ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

এ বিষয়ে  রায়গঞ্জ - তাড়াশের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হক এবং উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান মহোদয়ের নিকট আবদন জানানো হয়েছে। 
তাঁরা উভয়ে জানিয়েছেন, "অভিযোগ  পেয়ে  যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কৃষিমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে আগামী আমন মৌসুম শুরুর আগেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।"
জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দেশ চরম খাদ্য সঙ্কটে পড়বে এবং বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হবে।



কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ
রায়গঞ্জে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন  হুযাইফা হিজল, রায়গঞ্জ:   সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।  শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় রায়গঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক।  রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, কুদ্দুস মন্ডল, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলী হায়দার আব্বাসী, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মুক্তাদীর, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাম সরকার বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।  উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ খরিপ-২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩ হাজার কৃষকের মাঝে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।  প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে উফশী রোপা আমন ধান চাষের জন্য ৫ কেজি ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার পাচ্ছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

রায়গঞ্জে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণের উদ্বোধন হুযাইফা হিজল, রায়গঞ্জ: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফশী রোপা আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় রায়গঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ, কুদ্দুস মন্ডল, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলী হায়দার আব্বাসী, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মুক্তাদীর, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাম সরকার বিপ্লবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ খরিপ-২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৩ হাজার কৃষকের মাঝে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমিতে উফশী রোপা আমন ধান চাষের জন্য ৫ কেজি ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার পাচ্ছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।