সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় জোড়দিঘি-কালিকাপুর রাস্তায় চরম বেহাল দশা, জনজীবন বিপর্যস্ত

  • আপলোড সময় : ২৪ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১০:২৭ সময়
  • আপডেট সময় : ২৪ আগস্ট ২০২৫, দুপুর ১০:২৭ সময়
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় জোড়দিঘি-কালিকাপুর রাস্তায় চরম বেহাল দশা, জনজীবন বিপর্যস্ত




মো: ছানোয়ার হোসেন, মফস্বল সম্পাদক, বিজয় বিডি ৭১

সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউপি এলাকার আমশড়া জোড়দিঘি বাজার থেকে শুরু হয়ে রামকৃঞপুর ইউপি খুদ্দর্শিমলা পর্যন্ত এবং কালিকাপুর গ্রামে যাওয়ার পথটি বৃষ্টি মৌসুমে একেবারেই নাজুক অবস্থায় পড়েছে। এইটা সংক্ষিপ্ত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এক কিলোমিটার রাস্তা এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একদিন বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা ও পানি জমে থাকে। এতে করে গাড়ি, মোটরসাইকেল বা অটোরিকশা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। পথচারী এবং শিক্ষার্থীরা হাঁটতে বাধ্য, আর কাদা পানির মধ্যে পা ভিজে স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হয়। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টি হলে অন্তত সাত দিন রাস্তায় পানি জমে থাকে, ফলে পুরো এলাকার চলাচল ব্যাহত হয়।

খুদ্দর্শিমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বই, খাতা ও ব্যাগ নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে প্রতিদিন প্রচণ্ড সমস্যা হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কাদা ও পানি এড়িয়ে অন্য পথে ঘুরে যেতে বাধ্য হয়। এই পরিস্থিতি শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকেও বিপাকে ফেলেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আমশড়া-জোড়দিঘি বাজার সলঙ্গা থানার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, এবং এই বাজারে আসার প্রধান রাস্তাটি হলো এই জোড়দিঘি-কালিকাপুর পথ। রাস্তার বেহাল দশার কারণে ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহন ও ক্রেতা আসার পথে সমস্যায় পড়ছে।

এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা বহুবার ১ নং রামকৃঞপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হিরো এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন। কিন্তু সরকারের ‘৪০ দিনের কর্মসূচি’ অনুসারে রাস্তার মধ্যে কিছু মাটি ফেলার পরও রাস্তাটি পাকা হয়নি। ফলে বর্ষার কয়েক মাস এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে থাকতে বাধ্য।

স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দ্রুত পাকা করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য

এক পথচারী জানান, “প্রতি বৃষ্টি মৌসুমে আমাদের চলাচল একেবারেই অসম্ভব হয়ে যায়। কাদা পানি ও গর্ত ভরা রাস্তায় পা ভিজে স্কুল-কলেজে যাওয়া যায় না।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “এই বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া করা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যদি রাস্তাটি পাকা না হয়, ব্যবসা চলা প্রায় অসম্ভব।”

একজন শিক্ষক জানান, “ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন কাদা ও পানির মধ্যে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে। এটা তাদের স্বাস্থ্য ও পড়াশোনার জন্য খুবই ক্ষতিকর।”

উপসংহার

আমশড়া-জোড়দিঘি-খুদ্দর্শিমলা-কালিকাপুর রাস্তাটি শিক্ষা, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টি মৌসুমে চলাচলের এই চরম দুর্ভোগ শুধু স্থানীয়দের নয়, পুরো অঞ্চলের জনজীবনের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে।

সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দফতরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটি পাকা করার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে এলাকার মানুষ নিরাপদ ও সহজ চলাচলের সুযোগ পায়। নাহলে বর্ষার কয়েক মাসে এই রাস্তাটি চলাচলের জন্য এক চরম দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে।

এখন সময় এসেছে শুধু দাবির নয়, বাস্তব পদক্ষেপের—নাহলে মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য থাকবে।




কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ