সিরাজগঞ্জে কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছেনা গরু চুরি। এতে গরু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারি সহ প্রান্তিক কৃষক

  • আপলোড সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, দুপুর ১০:১৬ সময়
  • আপডেট সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, দুপুর ১০:১৬ সময়
সিরাজগঞ্জে  কোনভাবেই রোধ করা যাচ্ছেনা গরু চুরি। এতে গরু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারি সহ প্রান্তিক কৃষক


শামসুল হক

সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়  একের পর এক চলছে গরুর চুরির হিরিক। কোনক্রমেই থামছেনা এ চুরির ঘটনা। যার কারনে গরু পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন খামারিরা।  তাছাড়া সাধারণ কৃষক যারা স্বল্প পুঁজিতে ছোট ছোট বাছুর গরু কিনে খাদ্যের  জোগান দিয়ে বাড়িতে একটা দুইটা গরু পালন করতেন তাড়াও চোরের ভয়ে গরু পালনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। 


জানা গেছে -সিরাজগঞ্জের প্রায় সব কয়টি উপজেলায় একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। বহু চেষ্টা করেও তা রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে এলাকা বাসির মধ্যে ভয় ও আতংক বিরাজ করছে।  

এর বেশীর ভাগ ঘটনা ঘটেছে উল্লাপাড়া উপজেলায়। আর  এ উপজেলার  রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের  আগরপুর গ্রামে সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছে।অহরহ চুরির এ ঘটনা বেশ কিছুদিন যাবৎ চলমান আছে। 

সবশেষ গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং রাত আনুমানিক ১ টার দিকে আগরপুর উত্তর পাড়া নুনিয়ার পাড় নামক স্থানে মোঃ আব্দুর রশিদ প্রামানিকের দুইটি গরু চুরি হয় - যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা। 

এর কিছুদিন আগে একই গ্রামে পর পর বেশ কয়টি বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

এর মধ্যে আগরপুর উত্তর পূর্ব পাড়ার আঃ হামিদ মুন্সির ৩ টি গরু- যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা, একই পাড়ার মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক  সুপারের ১ টি ষাঁড় - যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চড়াপুকুরের আমজাদ আলীর ৩ টি গরু যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা, দক্ষিন পাড়ার আতাব আলীর ছেলের ২ টি গরু যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা। 

এরই এক পর্যায়ে আগরপুর দামিয়ার পাড়ের জয়নাল আবেদীনের গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরি করে পালানোর সময়  ছোট বাছুরের চিৎকারে এলাকা বাসি ঘেরাও করলে চোরেরা  গরু ফেলে পালিয়ে যায়। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রায়গঞ্জ তাড়াশ ও সলঙ্গায় এই চুরির ঘটনা অহরহ ঘটতেছে। সংবদ্ধ চোরেরা চুরির কাজে পিকআপ ভ্যান বা মিনিট্রাকে তুলে গরু পারাপার করে বলে শোনা যাচ্ছে। 


চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এলাকা বাসি  বেশ কিছু  দিন ধরে রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করে। কিন্তু পাহারারত অবস্থায় রাত আনুমানিক ১ টার সময় আমশড়া জোড়পুকুর বাজারে একটি  ট্রাক আসলে পাহারাদারদের সন্দেহ হয়। এতে তারা বেড়িকেড দিয়ে ট্রাকটি আটকে দেন। তখন সংগবদ্ধ চোরের আক্রমণে মারাত্মক আহত হন জুলহাস নামে এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ী সহ বেশ কয়েকজন।এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে কেউ পাহারা দিতে সাহস পাচ্ছেন না। 

তাছাড়া চোর চক্র অস্ত্রসহ চুরি করতে আসে এমন কি তাদের নিকট বন্ধুক বা পিস্তল থাকার কথাও শোনা গেছে।


তাড়াশের দক্ষিণ মথুরাপুর গ্রামে ট্রাকে তুলে  গরু চুরি করে পালানোর সময় এলাকাবাসী গরুর ট্রাক আটকাতে গেলে চোরেরা গাড়ির উপর থেকে জনতাকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল   নিক্ষেপ করে।যার ফলে কেউ এগুতে সাহস পায়নি। 

গত কয়েকদিন আগে  একই রকম ঘটনা ঘটেছে তাড়াশের ভাদাস গ্রামে। উক্ত গ্রামের আয়নাল হক নামক কৃষকের ৭টি গরু চুরি করে পালানোর সময় গরুর মালিক টের পেয়ে এগিয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।  এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী চোরের কথা শুনলেও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে সাহস করেনা। 

    এ অবস্থা চলতে থাকলে এবং চুরি রোধ করা না গেলে গরু খামারি বা সাধারণ কৃষকেরা গরু পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন এটাই স্বাভাবিক । 

এতে করে বহুবিধ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন পানীয় দুধ এবং মাংসের উৎপাদন কমে যাবে। 





কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

সর্বশেষ সংবাদ