সলংগা থানা প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন সাতটিকরী তালতলা এলাকায় ‘মামা ভাগ্নে নিউ রাজশাহী হোটেলে’ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬০ পিস ইয়াবাসহ আরিফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক বাবুর্চিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটক আরিফুল ইসলামকে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হোটেলে শ্রমিকের কাজ করলেও তাকে কখনো মাদক সেবন তো দূরের কথা, বিড়ি-সিগারেট বা পান খেতেও দেখা যায়নি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সলঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরনবী সিকদার, সলঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং সলঙ্গা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৮ নম্বর সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান (এমএ) স্থানীয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলটিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালান বলে জানা গেছে।
অভিযানের সময় ৬০ পিস ইয়াবাসহ বাবুর্চি আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় হোটেল মালিক শামসুল আলম (মদন) ও ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
‘ইয়াবা আমার কাছে ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়’
আটক আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম টিস্যুতে মোড়ানো ইয়াবা তার দিকে ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে যান।
আরিফুলের ভাষ্য, “আমি নেশা করি না। এমনকি বিড়ি-সিগারেট বা পানও খাই না। গরিব মানুষ, পেটের দায়ে হোটেলে কাজ করি। আমি হোটেল ম্যানেজার শরিফুলের ষড়যন্ত্রের স্বীকার।
মালিক-ম্যানেজারের ভূমিকা তদন্তের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোটেলটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা হয়ে আসছে। তাদের দাবি, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে প্রকৃতভাবে কারা জড়িত তা বেরিয়ে আসতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি বাবুর্চি আরিফুল কেবল কর্মচারী হয়ে থাকেন এবং তার দাবি অনুযায়ী ম্যানেজারই ইয়াবা তার কাছে ছুড়ে দিয়ে পালিয়ে থাকেন, তাহলে হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।
এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা জেনে-শুনে মাদক অপরাধ সংঘটনে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এই ঘটনায় কার কী ধরনের আইনগত দায় রয়েছে, তা তদন্ত ও আদালতের প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ৬০ পিস ইয়াবাসহ আরিফুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সলঙ্গা থানার ওসি আসলাম আলী বলেন, “৬০ পিস ইয়াবাসহ হোটেল বাবুর্চি আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। হোটেল মালিক শামসুল আলম (মদন) ও ম্যানেজার শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, ইয়াবার উৎস ও সরবরাহকারীদের শনাক্তকরণ এবং ঘটনায় যার যে ভূমিকা প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন