[গোদাগাড়ী রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি]
রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল রানা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মজনু মিয়া।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর জামাতা মো. কামরুজ্জামান প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি ডাকযোগে রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) ও গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মে (রবিবার) বিকেলে গোদাগাড়ী পৌরসভার বেলতলা মহল্লায় ভুক্তভোগী বাবুল আখতারের বাড়িতে সাদা পোশাকে হানা দেন এসআই জুয়েল রানা ও এএসআই মজনু মিয়া। তারা বাবুল আখতারকে মাদক কারবারি হিসেবে অভিযুক্ত করে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দাবি করেন। এনআইডি দিতে না পারায় তারা জোরপূর্বক মোবাইলে তার ছবি তোলেন এবং জরুরি ভিত্তিতে থানায় গিয়ে ওসির সাথে দেখা করতে বলেন। এ সময় ওই এলাকায় চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগকারী কামরুজ্জামান জানান, তার শ্বশুর বাবুল আখতার একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। তিনি ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদারি করেন এবং এলাকায় খুব একটা থাকেন না। তার বিরুদ্ধে আগে কোনো জিডি বা মামলা নেই।
কামরুজ্জামান বলেন
এ ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। যেকোনো সময় মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানো হতে পারে। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চাই।
অভিযুক্ত ও থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত এএসআই মজনু মিয়া দায় এড়িয়ে বলেন, আমি সেকেন্ড স্যারের (এসআই জুয়েল) নির্দেশে সেখানে গিয়েছিলাম। আমি কারও কাছে টাকা চাইনি।
অন্যদিকে, এসআই জুয়েল রানা দাবি করেছেন, ওসি স্যারের নির্দেশেই মাদক কারবারিদের থানায় ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেননি বলে জানান।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন:আইডি কার্ড নিয়ে আমার সাথে দেখা করার জন্য আমি কাউকে কোনো নির্দেশ দেইনি।
প্রচলিত নিয়মের বাইরে কাউকে থানায় ডাকার কোনো নির্দেশনা আমার পক্ষ থেকে নেই।
ইতিমধ্যেই এএসআই মজনুকে ডেকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং এসআই জুয়েলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এসআই জুয়েল রানার সাথে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন