সেলিম রেজা, জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
১০ বছর ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে জয়পুরহাট শহরের পশ্চিম অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য খনজনপুর এলাকায় নির্মিত ওভারহেড ট্যাংকটি। ওই ট্যাংকটির সঙ্গে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য লৌহদূরীকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণ করার নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসা গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে ট্যাংকটি পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। দ্রুত ওই ট্যাংক চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহ ও অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখার দাবি স্থানীয়দের।
জয়পুরহাট পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ জুন শহরে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (জিওবি-এডিবি) সেক্টর প্রকল্পের আওতায় জয়পুরহাট পৌরসভার খনজনপুর এলাকায় একই প্যাকেজে ওভারহেড ট্যাংক ও লৌহদূরীকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণ শুরু করে জয়পুরহাট পৌরসভা। কিন্তু ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করলেও লৌহদূরীকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে ১০ বছরেও চালু হয়নি সুপেয় পানি সরবরাহ। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ছিল ৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৯ টাকা। ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল কাজ বুঝিয়ে দিয়ে ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিল উত্তোলন করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ওই ট্যাংক থেকে এখনো চালু হয়নি পানি সরবরাহ। জরাজীর্ণ অবস্থা ও অকেজো হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ট্যাংকসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। ট্যাংকটি বন্ধ থাকায় পূর্ব এলাকার ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ হচ্ছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা অমল চন্দ্র, বাসিন্দা দারাব উদ্দিন, আব্দুর রহিম, তৌহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, অনেকেই জানে ট্যাংকটি চালু আছে। কিন্তু এই ট্যাংকটি ১০-১২ বছর আগে তৈরির পর থেকে এখনো চালুই হয়নি। এটি চালু না হওয়ায় সুপেয় পানির সুবিধা এলাকাবাসী পায়নি। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ট্যাংকটি নির্মাণ করেছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। যেসব পাম্প বা অন্যান্য যন্ত্রপাতি ছিল সেগুলোও গায়েব হয়ে গেছে। এ এলাকায় শহরের সিও কলোনি ও বাসস্ট্যান্ডের অনেক দূরের ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। অনেক সময় ঘোলা-নোংরা ও খাওয়ার অযোগ্য পানি আসে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ দ্রুত এই ট্যাংকটি চালুর দাবি জানাই।
পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর সাহেদুল ইসলাম সোহেল বলেন, যারা দুর্নীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জয়পুরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস ঝর্ণা বলেন, আমি বারবার পৌরসভায় মৌখিকভাবে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এখানে অবশ্যই দুর্নীতি হয়েছে, না হলে এতদিনেও কেন চালু হবে না। বিষয়টি নিয়ে আমি আবারও নতুন প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব। জয়পুরহাট পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) খালেদুল হক বলেন, শুধু ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু লৌহদূরীকরণ প্ল্যান্ট করা হয়নি। এজন্য ওই ট্যাংক দিয়ে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
জয়পুরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, আমি সদ্য প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন