তুষার আহমেদ, স্টাফ রিপোটার।
সলঙ্গা থানার সাতটিকরী গ্রামের আকাশ আজ শোকাচ্ছন্ন। থমকে গেছে এলাকার স্বাভাবিক ছন্দ। না ফেরার দেশে চলে গেলেন সলঙ্গার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ তালুকদার। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মরহুম এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ তালুকদার ১৯৫১ সালের ২৫ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানাধীন সাতটিকরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমী ও ন্যায়পরায়ণ। ১৯৮৪ সাল থেকে সিরাজগঞ্জ জজ কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। একজন নির্ভীক ও সৎ আইনজীবী হিসেবে তিনি সর্বমহলে সম্মানিত ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৭ সালে সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার মানুষের কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ক্ষমতার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে তিনি সবসময় বড় করে দেখেছেন।
আজ তিনি নেই, কিন্তু রেখে গেছেন অসংখ্য স্মৃতি, মানুষের ভালোবাসা আর ন্যায়বোধের এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তার ইন্তেকালে শুধু একটি পরিবার নয়—শোকাহত পুরো উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা অঞ্চল। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহল তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মরহুমের জানাযা নামাজ অদ্য শনিবার সকাল ১০টায় নাইমুড়ী-রুয়াপাড়া সম্মিলিত কবরস্থান মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ তালুকদার ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি শুধু একজন সাবেক এমপি বা আইনজীবী নন—তিনি ছিলেন এলাকার অভিভাবক, ন্যায় ও সততার প্রতীক। আজ তিনি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেও তার কর্ম, আদর্শ ও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকা স্মৃতিগুলো চিরদিন অম্লান থাকবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুমের জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেন, তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন—আমিন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী,তিন মেয়ে, এক ছেলে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণীজন রেখে গেছেন।
জানাযার পূর্বে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এলাকাবাসী। পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন,মরহুমের ছেলে ও তিন মেয়ে।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন