আখতার হোসেন হিরন :
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় শীতে গরমের উঞ্চতা পেতে নিম্ন থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ফুটপাতের গরম কাপরের দোকানে ভির করছে।
পৌষের কাছাকাছি আসতেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও সাথে থাকে ঠান্ডা বাতাস। যার কারণে শীতের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সলঙ্গা বাজারের ভূষাল হাটা ফুটপাতের নতুন/পুরাতন গরম কাপরের দোকানে ভির দেখা যায়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা নিজসহ বাড়ির ছোট বড় সবার জন্য নতুন/পুরাতন শীতের পোশাক কেনাকাটা করছে।
মার্কেটে যে পোশাক ১ হাজার থেকে ১২ শত টাকা দিয়ে কেনা যায়, সেই পোশাক এখানে ৬ শত থেকে ৭ শত টাকায় কিনতে পাওয়া যায়।
ফুটপাতের দোকানে গরম কাপড় কিনতে আসা কোরবান আলী জানান,বাসায় ছোট মেয়ে আছে তার জন্য একটা শীতের পোশাক জ্যাকেট কিনতে এসে প্রথমে বাজারের অগ্রণী ব্যাংক মার্কেট ও ডা:মোহাম্মাদ আলী নিউ মার্কেটে যাই। সেখানে কয়েকটি দোকান ঘুরে একটা জ্যাকেট দামাদামি করতে থাকি। সেই জ্যাকেট ১৩ শত টাকার কম কিনতে পারি নাই। পরে এখানে এসে সেই মানের জ্যাকেট ৯ শত টাকায় কিনলাম। ফুটপাতের গরম কাপরের দোকানদার আরজু, রাসেল,নান্নু জানান-আমরা সিজনের সময় এই (গরম কাপর) শীতের পোশাক বিক্রি করে থাকি। মার্কেটে পজিশন নেয়া দোকান মালিক এবং আমরা প্রায় সময় একসাথে গিয়ে ঢাকা থেকে পোশাক নিয়ে আসি। তবে আমাদের দোকান ভাড়া,জামানত,কর্মচারি বিল দিতে হয় না। তাই আমরা কম লাভে পোশাক বিক্রি করে থাকি এবং কমদামে বিক্রি করার ফলে আমাদের সেলও বেশি হয়। দিন শেষে যা ইনকাম হয়, তাই দিয়ে আমাদের পরিবার চালাই।
রিক্সা চালক আব্দুল খালেক জানান,শীতে রিক্সা চালাতে কষ্ট হয়। তাই মার্কেটে একটা নতুন জ্যাকেট কিনতে আসি। ঘুরে ঘুরে ১৫শত থেকে ২ হাজার টাকার নিচে কিনতে পারি নাই। অবশেষে ভ্যানগাড়ীতে বিদেশি পুরাতন জ্যাকেট বিক্রেতা মোফাজ্জল হোসেনের নিকট থেকে ৪ শত টাকায় একটা জ্যাকেট কিনলাম। বুড়ো মানুষ রিক্সা চালিয়ে খুব একটা আয় করতে পারি না। বয়সের ভারে খুব দূর্বল হয়ে গেছি। তাই মার্কেট থেকে নতুন জ্যাকেট কেনা সম্ভব হলো না।