ছানোয়ার হোসেন,মফস্বল সম্পাদক বিজয় বিডি ৭১
সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার বিভিন্ন এলাকায় গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ করে নেমে আসে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া।
হঠাৎ এই অঝোর বর্ষণে মাঠে পাকা ও আধাপাকা ধানগাছগুলো মাটিতে নুয়ে পড়ে, অনেক জায়গায় জমে থাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এমন বৃষ্টিতে এলাকার কৃষক সমাজে নেমে এসেছে হতাশা ও দুশ্চিন্তার ছায়া।
রাতভর চলা বৃষ্টিতে মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। ফলে ধানগাছের গোড়ায় পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক চাষি জানান, তারা ইতিমধ্যে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন—জমিতে শ্রমিক ঠিক করা, মাড়াইয়ের জায়গা প্রস্তুত—সব কিছুই প্রায় তৈরি ছিল।
কিন্তু আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
একজন কৃষক বলেন,
“বছরজুড়ে কষ্ট করে ধান চাষ করি, সার, পানি, কীটনাশক—সবকিছুই অনেক খরচে করেছি। এখন ধান কাটার সময়, কিন্তু এই বৃষ্টিতে আমাদের সব আশা শেষ হয়ে গেল। পানি না নামলে ধান পচে যাবে।”
আরেকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন,
“গত বছরের মতো এবারও এমন দুর্ভাগ্য হবে ভাবিনি। কৃষক এখন সবচেয়ে অসহায়। হাতে নেই টাকা, মাঠে নষ্ট হচ্ছে ফসল।”
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বৃষ্টিতে উপজেলার বহু একর জমিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে নীচু জমির ধান বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পানি নেমে যায়, তাহলে কিছুটা ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকেরা সরকারের তাত্ক্ষণিক সহায়তা ও কৃষিঋণ পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন।
সাধারণ মানুষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ধান উৎপাদনে এমন ক্ষতির ফলে চালের দামও বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে বাজারে ও সাধারণ মানুষের জীবনে।
ছবি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার চকনিহাল বিল এলাকা থেকে তোলা।
উপসংহার:
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু মানুষের সহমর্মিতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে ক্ষতি কমাতে।
সলঙ্গার কৃষকরা আজ জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
বছরের পর বছর তারা দেশের খাদ্য সরবরাহে অবদান রেখে যাচ্ছেন, অথচ এক রাতের বৃষ্টিতে তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
এখন প্রয়োজন সরকারের দ্রুত ত্রাণ সহায়তা, কৃষি বিভাগীয় বিশেষ মনিটরিং ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা।
কারণ কৃষকই আমাদের জাতির প্রাণ, তাদের ফসলই আমাদের বেঁচে থাকার ভিত্তি।
সলঙ্গার এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা আবারও স্মরণ করলাম — প্রকৃতি যখন রুষ্ট হয়, তখন মানুষ অসহায়; কিন্তু মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়ালে দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই সামলে নেওয়া যায়।