এম, এ, সামাদ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
- বিদায় সবসময় বেদনার হলেও কখনো তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকে এমনি এক বিদায় সম্বর্ধনা পেয়েছেন বনবাড়িয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ (শহিদুল ইসলাম )। প্রধান শিক্ষকের অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃক বর্ণিল আয়োজন করেন। বিভিন্ন ফুলের মালা দিয়ে ওই শিক্ষককে বিদায় জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ স্যার ১৯৮০ সালে গয়হাট্রা সালেহা ইসাহাক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তারপর সরকারি আকবর আলী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং স্নাতক ডিগ্রী করেন। ১৯৯৩ সালে বনবাড়িয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বি এড ও স্নাতকোত্তর উত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি সুনামের সহিত শহীদ অতিবাহিত করেছেন । তার হাতে গড়া অনেক শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামির সহিত বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তার স্মৃতিচারণ করেন এক শিক্ষার্থী বলেন, স্যার শুধু শিক্ষকই ছিলেন না তিনি পিতার মত আমাদের স্নেহ করতেন তার বিদায় আমাকে মর্মাহত করেছে, কিস্তু তার দোয়া ও শিক্ষা আমাদের মানবিক জীবন গড়তে সহায়ক হবে।
সহকর্মীরা বলেন তিনি শুধু প্রধান শিক্ষকই ছিলেন না তিনি ছিলেন আমাদের ভাইয়ের মত যে কোন বিষয়ে পরামর্শ নিতাম। বিদায় বড় কষ্টের তবুও মানতে হবে আমাদেরও এভাবে একদিন বিদায় নিতে হবে। একজন শিক্ষক যখন তার চাকরিও জীবন শেষে বাড়ি ফিরে যান, তখন তিনি অনেক কষ্ট পান। কিস্তু শিক্ষর্থীদের ব্যতিক্রম এমন আয়োজন কিছুটা কষ্ট কমাবে।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ স্যার বলেন, আমার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠান জেলার পাশাপাশি সারাদেশে বিদ্যালয় এর সুনাম রয়েছে, আমি অবসরে যাচ্ছি, যাওয়ার পরে আপনারা যারা বিদ্যালয়ের দায়িত্বে থাকবেন তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি খেয়াল রাখবেন বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী নম্র সুভাষী ও ভালো মানুষ ছিলেন।তিনি কর্মজীবনে নিষ্ঠার সহীদ দায়িত্ব পালন করে এসেছেন । তার এই সদাচরণ শিক্ষার্থী সহকর্মী এবং এলাকাবাসী মনে রাখবে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই সন্তানের বাবা। বড় ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে রবি এয়ারটেল মোবাইল কমাতে কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। ছোট ছেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিষয়ের শিক্ষার্থী।
আল্লাহ তায়ালা তার অবসর কালীন জীবন সুস্থ ও সুন্দর রাখুন, শিক্ষর্থী, অভিবাবক ও এলাকাবাসী নিয়ে দোয়ার আয়োজন করা হয়।