মোঃ শামছুল হক, তাড়াশ সংবাদ দাতা, সিরাজগঞ্জ।
বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প আজ ভয়াবহ সংকটে। হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি প্রতিদিন ফার্ম বন্ধ করে দিচ্ছেন -ফিড ওষুধ এবং ভ্যাকসিনের উচ্চ মূল্যের কারণে সেই সাথে মুরগী ও ডিমের নায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে।
গত এক বছরে ব্রয়লার, লেয়ার,ও সোনালী মুরগী এবং ডিমের বাজারে দফায় দফায় দরপতন হলেও ফিড কোম্পানিগুলো কোনোভাবেই দাম কমায়নি। প্রতি বস্তা ফিড এখনো ৩১০০-৩৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা অধিকাংশ খামারির জন্য কার্যত 'গলার ফাঁস' হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঔষধ এবং ভ্যাকসিনের দাম। সব মিলিয়ে দেখা যায় খামারীদের খরচ উঠছে না, লোকসান গুনতে গুনতে টিকতে পারছেন না অনেকেই।
সিরাজগঞ্জের এ রকম বহু খামারীর সাথে কথা হলে তারা জানান-
“ ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করি কেজিতে ১৩০ টাকা, অথচ প্রতি বস্তা ফিড কিনতে হয় ৩৩০০ টাকা দিয়ে। এই হিসাব কেমনে মেলে?”
একজন লেয়ার খামারী বলেন, ২৮৫০-২৯০০ টাকায় ১ বস্তা খাদ্য কিনে ডিম বিক্রী করি শতকরা ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। আনুসঙ্গিক খরচতো আছেই।
আবার ডিমের দাম সামান্য বাড়লেই ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করছেন।
অন্যদিকে খামারে সারা বছর রোগ বালাই লেগেই থাকে।
বার্ডফ্লু, গাম্বুরো,রাণীক্ষেত, করাইজা,সালমোনেলা,
ইনফ্লুয়েন্জা এরকম রোগে একবারে খামারের সব মুরগী মরার ইতিহাস আছে। ভ্যাকসিনের আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে খামারিদের নাভিশ্বাস। কোম্পানি ভেদে একটা বার্ডফ্লু ভ্যাকসিনের দাম ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে মুরগির মাংস ও ডিমের ন্যায্য দাম নির্ধারণ না করে শুধুমাত্র ফিড ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর লাভ নিশ্চিত করার পথেই হাঁটছে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। এতে করে প্রান্তিক খামারিরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আর দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন একাধিকবার দাবি জানিয়েছে,
ফিডের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং একাধিক কোম্পানির অকারণ মূল্যবৃদ্ধির তদন্ত করা জরুরি।
অথচ এসব দাবি এখনো উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।
পোলট্রি শিল্পে কর্মরত কয়েক লাখ মানুষের জীবিকা, দেশের আমিষের জোগান এবং খাদ্য নিরাপত্তা—সবই আজ ফিডের ও ওষুধের দাম নির্ভর করেই অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—শুধু ফিড ও ওষুধ কোম্পানির মুনাফা ঠিক রাখতে গিয়ে কি আমরা একটি পুরো শিল্পকে ধ্বংস হতে দিব?
সংশ্লিষ্ট সকলকে বিষয়টি নিয়ে ভাবার অনুরোধ করেছেন প্রান্তিক খামারীরা। না হলে মাংস এবং ডিমের চাহিদা পুরুনে বিদেশী আমদানি নির্ভর হতে হবে।