বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকে ভোটের বিনিময়ে জান্নাত বিক্রির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং উল্লাপাড়া–সলঙ্গা আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি—গোটা বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা-কর্মী ভোটের বিনিময়ে জান্নাত বিক্রি করেছে, এমন একটি প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের একজন নেতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এসব বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের কারণেই তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছেন।
ধর্ম ও রাজনীতি প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম খান বলেন,
“আমরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না, আমরা ধর্মীয় রাজনীতি করি। অন্য কোনো ধর্মের বিরুদ্ধেও আমরা রাজনীতি করি না।”
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কোনো উপঢৌকন, ফ্ল্যাট বা কার্ড দেওয়ার ঘোষণা আচরণবিধির পরিপন্থী। নির্বাচনী এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের প্রতিশ্রুতির ভয়াবহ পরিণতি দেশ প্রত্যক্ষ করেছে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ নিয়েও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,
“নির্বাচনের আগে এসব দেওয়া যাবে কি না—এই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এ ধরনের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেখানেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—নির্বাচনের আগে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,
“হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নির্বাচন কমিশন কোনো দলের পক্ষে কাজ করার জন্য গঠিত হয়নি।”
স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, উল্লাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জনগণের পাশে থাকার কারণে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ তার পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“ভোটাররা যদি নিরপেক্ষভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।