এনামুল হক উল্লাপাড়া ( সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা এর পূর্ণিমাগাতী ইউনিয়নের পুঠিয়া গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে আপন ভাই বোনের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি করা জায়গায় গাছ রোপণকে কেন্দ্র করে ভাই আব্দুর রব ও তার বোন তাছনিছ জান্নাত শিল্পীর মধ্যে প্রথমে বাকবিন্ডা শুরুহয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারধরে রূপ নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার ইদ্রিস আলী জানান, তার একটি নার্সারি থেকে আব্দুর রব গাছ ক্রয় করেন এবং নিজ বাড়িতে রোপণের জন্য তাকে দায়িত্ব দেন। তিনি বলেন, আমি শ্রমিক নিয়ে গাছ লাগানোর কাজ শুরু করি। এ সময় হঠাৎ করে আব্দুর রবের বোন এসে গাছ লাগাতে বাধা দেন এবং রোপণ করা গাছ উপড়ে ফেলতে থাকেন। পরে তাদের মধ্যে ধস্তাধমিÍ শুরু হয়।
এ ঘটনায় আব্দুর রব বলেন, আমি আমার বাবার পৈতৃক বাড়ির পাশে গাছ লাগাচ্ছিলাম। আমার বোন এসে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গাছ উপড়ে ফেলে। আমি বাধা দিলে সে ও তার স্বামী আমাকে মারধর করে এবং আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে। আমার বড় ভাই ও বেনেরা একজট হয়ে আমার মাকে ফুঁসলিয়ে এর আগে হয়রানি করার জন্য মামলা দিয়েছিলো। আমি আমার বোনদের বলেছিলাম তাদের বাড়ির যে অংশ পায় সেই অংশটি পরিবর্তে জমি থেকে দিবো। কিনÍু আমার বোনেরা কোন কথা শুনে না । তাদের বলেছিলাম আমারা দুই ভাই পৈতৃক বাড়িটি ভাগ করে বসবাস করবো কিন্তু তারা কোন কথা শুনে না। অন্যদিকে আমার বড় ভাই ৫ বছরে কোন হিসাব দেয় না। সেই টাকাপয়সার হিসাব চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা করে।
অন্যদিকে, তাছনিছ জান্নাত শিল্পী ভিন্ন দাবি করে বলেন, আমি পুঠিয়াতে একটি হেলথকেয়ারে চাকরি করি। ঘটনার দিনে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি আমার ভাগকৃত বাড়িতে গাছ লাগানো হচ্ছে। আমি নিষেধ করতে গেলে হঠাৎ আমার ভাই এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করে। আমার স্বামী এগিয়ে এলে তাকেও মারার চেষ্টা করা হয়। পরে আমি পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেই এবং বাংলাদেশ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে সহায়তা চাই।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে উল্লাপাড়ার শ্রিকোলা চলে আসি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রæত বিষয়টি মীমাংসার পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের খবর পাওয়া যায়নি।